স্পেনে আবাসন সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এটি দেশের প্রধান সামাজিক সমস্যাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯০ বর্গমিটারের একটি সাধারণ বাসার দাম গড়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ইউরোর বেশি, যার ফলে ২২ বছর বয়সী একজন তরুণকে নিজের পুরো বেতন জমালেও একটি বাড়ি কিনতে প্রায় ১১ বছর সময় লাগবে। ভাড়ার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কঠিন—একজন তরুণ কর্মজীবীকে সম্পূর্ণ ভাড়া দিতে গেলে তার আয়ের প্রায় ৯২ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দল পার্তিদো পপুলার আবাসন নীতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যবস্থাপনাকে ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে আবাসনমন্ত্রী ইসাবেল রদ্রিগেস–এর বিরুদ্ধে সিনেটে নিন্দা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলটির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে চার বছরের মধ্যে ১০ লাখ নতুন বাসা নির্মাণ করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন জমি সাশ্রয়ী ভাড়ার বাড়ি তৈরিতে ব্যবহার, প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কর্মজীবনের শুরুর কয়েক বছর তরুণদের আয়করে ছাড় বা অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তাদের দাবি, এতে আবাসনের সরবরাহ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া সহজ হবে।
এদিকে অবৈধভাবে বাসা দখলের বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে এসেছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি বাসা দখলে রয়েছে এবং এ–সংক্রান্ত অভিযোগ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিরোধী দল এই বিষয়টিকে আইনগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে সরকারের সমালোচনা করছে।
তাদের মতে নাগরিকদের জন্য সহজে আবাসনের ব্যবস্থা করা গেলে তা পরিবার গঠন ও জন্মহার বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবাসনের ঘাটতি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং ভুল নীতির ফল—এমন দাবি তুলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে বিরোধীরা। স্পেনে বাড়তে থাকা আবাসন সংকট এখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অন্যতম প্রধান সংঘাতের ইস্যু হয়ে উঠেছে।