ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভার শপথের সাংবিধানিক পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি বঙ্গভবনের দিকে।
শনিবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি উপস্থাপন করবেন। এরপর সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়াবেন।
ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
গেজেট অনুযায়ী ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন
- জোটসহ মোট আসন ২১২
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও মিত্ররা পেয়েছে ৭৭টি আসন
- বাকি আসন অন্যান্য ও স্বতন্ত্রদের
স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপি এগিয়ে থাকায় তাদের আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ সদস্যদের শপথ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যেদিন সংসদ সদস্যদের শপথ হবে, সেদিনই বা পরদিন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে।
শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন ১ হাজার অতিথি
বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিতব্য শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি—সবাই থাকবেন অতিথি তালিকায়।
মোদিকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে India Today।
নির্বাচনে বিজয়ের পর মোদি টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যদি আমন্ত্রণ পাঠানো হয় এবং গ্রহণ করা হয়, তবে তা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোটের গেজেটও প্রকাশ হয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ—গত দেড় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রত্যাশায় জনগণ যে বিপুল ম্যান্ডেট দিয়েছে, এখন তার বাস্তবায়নই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ এখন নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে। দুই যুগ পর এককভাবে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি—শপথের মধ্য দিয়েই শুরু হবে সেই নতুন পথচলা।