লিবিয়ার পশ্চিম উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে দুই শিশুসহ ৫৩ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে।
আইওএম জানায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু আগে লিবিয়ার জাওয়াইয়া এলাকা থেকে ৫৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে অধিকাংশ যাত্রী সাগরে তলিয়ে যান।
ঘটনার পর লিবিয়ার কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে জীবিত উদ্ধার করে। তারা দুজনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। উদ্ধার হওয়া নারীদের একজন জানান, দুর্ঘটনায় তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন। অপরজন বলেন, তার দুই সন্তান নিখোঁজ।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে অনেকেই ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় করে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
আইওএমের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই এই সমুদ্রপথে অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। তুলনামূলকভাবে গত বছর একই রুটে প্রায় ১,৩০০ জন প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত লিবিয়া মানবপাচারকারীদের সক্রিয় ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন আফ্রিকান ও এশীয় দেশের দরিদ্র ও সহিংসতা-পীড়িত মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় পাঠিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে পাচারকারী চক্র—এমন মন্তব্য করেছে আইওএম।