বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়ালি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ। তবে চুক্তির মূল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে।
চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান জানান, পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।
চুক্তিটি ইতোমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন জারি করলে এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
চুক্তির শর্তাবলি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। কারণ এ বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তখন বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত শুল্কহার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা পরে ধাপে ধাপে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। সর্বশেষ চুক্তিতে তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিতে শুল্ক ও অশুল্ক সুবিধা ছাড়াও ডিজিটাল বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উৎসবিধি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করেছে।