জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মনে করেন, মা হওয়া শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও নিরাপত্তা দেওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে মা করে তোলে। তিনি বলেন, “জন্ম দিতে পারলেই কি সন্তানেরা মায়ের কাছে থাকে? আমি জগতের সকলের মা হয়ে থাকতে চাই—সেখানেই আমার আনন্দ।”

সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান মাতৃত্ব নিয়ে তাঁর এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজে মা না হলেও সমাজের শিশুদের জন্য একজন দায়িত্বশীল আশ্রয় হয়ে থাকতে চান। তাঁর মতে, পৃথিবীতে অসংখ্য শিশু রয়েছে যারা জন্মদাত্রী মা থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত।
জয়া আহসান বলেন, বর্তমান সমাজে শিশুদের প্রতি অবহেলা, সহিংসতা ও নানামুখী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ এসব ঘটনার কথা চাপা দিতে চায়, যার ফলে শিশুরা আজীবনের মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়ায়। তাঁর ভাষায়, “শিশুর উপর অত্যাচার হলে শুধু আইন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের বিবেকের প্রশ্ন উঠে আসে।”

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মা মানে শুধু জন্মদাত্রী নন—একজন মা হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি শিশুকে নিরাপদ অনুভব করান। তিনি মনে করেন, যদি সমাজের প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে শিশুদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বহু নির্যাতন ও অবহেলা রোধ করা সম্ভব। “আমি চাই, আমার কাজ, আমার অবস্থান দিয়ে যেন শিশুদের জন্য একটা নিরাপদ বার্তা পৌঁছায়,”—বলেন জয়া।
অভিনেত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি। জয়ার মতে, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি শিশু নির্যাতন, মানসিক ট্রমা ও সামাজিক নীরবতার মতো বিষয়গুলোকে আলোচনায় আনতে পারে। তিনি বলেন, এসব সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলা কঠিন হলেও নীরব থাকাটা আরও ভয়ংকর।
জয়া আহসান স্পষ্ট করে জানান, মাতৃত্ব তাঁর কাছে কোনো জৈবিক পরিচয় নয়, বরং একটি মানবিক অবস্থান। তিনি বলেন, “আমি কাউকে জন্ম দিইনি, কিন্তু আমি চাই—যারা ভালোবাসা, আশ্রয় বা সাহস খুঁজছে, তারা আমাকে একজন মায়ের মতো ভাবতে পারুক।”