আর মাত্র দুই মাসের একটু বেশি সময় বাকি স্পেনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন মৌসুম শুরুর। আগামী ৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হবে ২০২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল। এরই মধ্যে করদাতাদের জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত, এমনকি অস্বস্তিকর খবর সামনে আসছে।
কর বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যারা ২০২৫ সালে চাকরিজীবী ছিলেন এবং বছরে ২২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ২০০ ইউরো আয় করেছেন, তাঁদের অনেককেই কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ৪০০ থেকে ৯০০ ইউরো পর্যন্ত রাজস্ব দপ্তরে ফেরত দিতে হতে পারে।
এর প্রধান কারণ হলো ব্যক্তিগত আয়করের অগ্রিম কর্তনের হার কমানো। ২০২২ সালের শেষ দিকে কর বিধিমালায় পরিবর্তনের পর ২০২৩ সাল থেকে বেতন থেকে কেটে নেওয়া করের হার কমানো হয়। এর ফলে এই আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কর্মীরা প্রতি মাসে তুলনামূলকভাবে বেশি নেট বেতন পেয়েছেন।
তবে এই কর ছাড় মানে কর মওকুফ নয়। আসলে মাসিক বেতন থেকে কম কর কাটা হলেও বার্ষিক কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকেই গেছে। ফলে পুরো বছরের হিসাব শেষে, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সেই বাকি কর একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
করদাতারা যখন রাজস্ব দপ্তরে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তখন তাঁদের মোট আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রকৃত কর নির্ধারণ করা হবে। যদি দেখা যায়, বছরের মধ্যে কেটে নেওয়া করের পরিমাণ কম হয়েছে, তাহলে সেই পার্থক্যের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
তবে এই প্রভাব সবার জন্য সমান হবে না। যেসব কর্মীর ওপর পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে—যেমন নির্ভরশীল সন্তান বা আয়হীন জীবনসঙ্গী—তাঁদের ক্ষেত্রে বছরে কর কর্তন সাধারণত কম হয়। ফলে তাঁদেরই ফেরত দেওয়ার অঙ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, যাঁরা আয়ের ঊর্ধ্বসীমা অর্থাৎ ৩৫ হাজার ২০০ ইউরোর কাছাকাছি এবং যাঁদের পারিবারিক দায়িত্ব কম বা নেই, তাঁদের বেতন থেকে কর কর্তন তুলনামূলকভাবে সঠিক ছিল। এ ক্ষেত্রে রিটার্নে অতিরিক্ত কর দেওয়ার প্রয়োজন কম হতে পারে, এমনকি নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটি অতিরিক্ত কর দেওয়া নয়। বরং মাসে মাসে না দিয়ে, বার্ষিক হিসাবের সময় পরে গিয়ে করের হিসাব সমন্বয় করা হচ্ছে। অর্থাৎ, বেতনের সঙ্গে কর পরিশোধের বদলে এখন একবারে সেই হিসাব মেলানো হচ্ছে আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে।