আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জনতার ইশতেহার’ নামে ঘোষিত এ ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রথমে ইশতেহারের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের মোট ২৬টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা এই ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অংশে বৈষম্যহীন, মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং যুবসমাজকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও এতে রয়েছে।
জামায়াত জানিয়েছে, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। দলের দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই ‘জনতার ইশতেহার’ প্রস্তুত করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ইশতেহার ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে দলটি।