যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিটি তরুণ–তরুণীকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলে তাঁদের যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যেন তারা নিজের সামর্থ্য উজাড় করে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হেলিকপ্টারে করে সমাবেশস্থলে এসে তিনি জেলার ১১টি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাঁদের জন্য জনসমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, তারা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে দেশের উর্বর মাটি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সমৃদ্ধি আসবে। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের দুবারের স্বাধীনতার পরও দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, যার জন্য তিনি অসৎ ও জনবিচ্ছিন্ন নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির শাসকগোষ্ঠী জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও মর্যাদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবকেরা এখন বুঝে গেছে, তারা আর ধান্দাবাজি-ধাপ্পাবাজির রাজনীতি ও ভাতানির্ভর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে থাকতে চায় না।
জামায়াতের আমিরের ভাষ্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে নেই। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা এখনই জনগণের ওপর অত্যাচার–নির্যাতন ও চাঁদাবাজি চালায়, তারা ক্ষমতায় গেলে আরও নির্মমভাবে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করবে এবং নারীর মর্যাদা রক্ষায় কোনো শ্রদ্ধাবোধ দেখাবে না।
নারীদের নেকাব–হিজাব নিয়ে কটূক্তিকারীদেরও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নারীর পোশাক খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়, তারা কি আসলেই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া মানুষ হতে পারে, এবং জানান—এই ধরনের অমানবিক ভাষা ও আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট, লজিস্টিক ও জনবল না পাওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দেশের কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ১১–দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ করা হবে এবং এটিকে কেন্দ্র করে পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে কৃষিবিপ্লব ঘটানো হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি বিভাগীয় শহরকে আধুনিক ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করা হবে। এসব নগরীতে উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিরাপদ ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যেখানে কোনো চাঁদাবাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সাহস পাবে না।
সমাবেশে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামাল আহসান সভাপতিত্ব করেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক আকন্দ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।