উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই মৌসুম এখন পৌঁছেছে সাসপেন্স ও প্রতিশোধের মোড়ে আর কেন্দ্রবিন্দুতে বেনফিকা। গত ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল বেনফিকা। সেই ঐতিহাসিক জয়ে দলের নায়ক ছিলেন তুরবীন, যিনি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নির্ণায়ক গোল করে বেনফিকার আশা বাঁচিয়ে দেন। তাঁর সেই গোল শুধু জয় নিশ্চিত করেনি, বরং ‘ঈগলস’দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছিল ইউরোপীয় মঞ্চে আবারও গৌরব ছোঁয়ার লড়াইয়ে।
এস্তাদিও দা লুজে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারিতে হবে প্রথম লিগ, আর দ্বিতীয় লিগ খেলতে হবে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক বার্নাবেউতে ২৪ বা ২৫ ফেব্রুয়ারি। ঘরের মাঠে খেলা শুরু হলেও, অচেনা স্প্যানিশ ছন্দ ও রিয়ালের অদম্য ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা বেনফিকার জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠবে নিশ্চিতভাবে।
চলতি মৌসুমে বেনফিকার পারফরম্যান্স ধারাবাহিক, বিশেষ করে ঘরোয়া লিগে তাদের আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাস দৃশ্যমান। এই আত্মবিশ্বাস তারা রিয়ালের বিপক্ষে শেষ সাক্ষাতে দেখিয়েছিল—যেখানে দলের সমন্বয়, গতি ও কৌশল ছিল নিখুঁত সুরে বাঁধা। তবে সত্য হলো, রিয়াল মাদ্রিদ কখনোই পরাজয়কে শেষ কথা হিসেবে মেনে নেয় না। তারা ফিরে আসে—অভিজ্ঞতা আর প্রতিশোধের মিশ্রণ নিয়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাস বলে, ফেব্রুয়ারির প্লে-অফগুলোই ঠিক করে দেয় মৌসুমের গতি। এই দ্বৈরথও ব্যতিক্রম নয়। বেনফিকা যদি এই দেয়াল টপকাতে পারে, তাহলে রাউন্ড অফ ১৬-এ তাদের অপেক্ষায় থাকবে স্পোর্টিং বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
অন্যান্য ম্যাচগুলোতেও উত্তেজনা: বোডো/গ্লিম্টের মুখোমুখি হবে ইন্টার মিলান, অলিম্পিয়াকোসের চ্যালেঞ্জে বায়ার লেভারকুসেন, আর পিএসজি লড়বে মোনাকোর বিপক্ষে। ইউরোপের সব বড় ক্লাবই এখন প্রস্তুত—এক ভুলই হতে পারে মৌসুমের সমাপ্তি।
বেনফিকা সমর্থকদের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—ঈগলসরা আবারও কি উড়তে পারবে ইউরোপের আকাশে, নাকি রিয়ালের পুরনো গৌরব তাদের ছায়ায় গ্রাস করবে? ফেব্রুয়ারির রাতগুলোই দেবে সেই উত্তর।