আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর পুনরুত্থান।
প্রায় সাড়ে চৌদ্দ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সমীকরণ, সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি, নতুন ও পুরোনো শক্তির সম্পর্ক এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপযুক্ত সময় তিনি মনে করেন না।
জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর জোট প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, এই সমঝোতা সুস্পষ্ট নীতিগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একে অপরের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখে—একটি থাকলে অন্যটিও থাকে। ফলে এই সমীকরণ ভাঙা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের তরুণ শক্তিকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি কার্যকর তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ যখন পুরোনো ব্যবস্থার অংশ হয়ে জোট রাজনীতিতে যুক্ত হয়, তখন সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আদর্শিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।
ভবিষ্যৎ সরকারব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সমাজের গভীরে থাকা বিভাজন ও অবিশ্বাস দূর করতে না পারলে স্থিতিশীলতা আসবে না। কেবল প্রশাসনিক বা কাগুজে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্ন মত ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা জরুরি। তা না হলে গণপিটুনি ও সহিংসতার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মাহফুজ আলম। তার মতে, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনায় যেতে হবে। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটের সমাধান না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকা মাহফুজ আলম জানান, তিনি সময় দিচ্ছেন পড়াশোনা ও তরুণদের সঙ্গে আলোচনায়। তার মতে, প্রকৃত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তনের লড়াই চলমান থাকবে।