স্পেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে মাসে ১,২২১ ইউরো (১৪ কিস্তিতে) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসে ৩৭ ইউরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে একমত হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করবে এবং বৃদ্ধি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হবে।
তবে দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তারা সরকারের প্রস্তাবিত কর-সুবিধাকে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে। সরকার ও শ্রমিক সংগঠন একমত হয়েছে যে, এই আয়ের স্তর আয়কর থেকে মুক্ত থাকবে।
২০১৮ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ন্যূনতম মজুরি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৭৩৬ ইউরো, যা এখন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,২২১ ইউরোতে। অর্থাৎ এই সময়ে মোট বৃদ্ধি প্রায় ৬৬ শতাংশ। একই সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ, ফলে ন্যূনতম মজুরির প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে।
এই বৃদ্ধি দেশের গড় নেট বেতনের প্রায় ৬০ শতাংশের সামান্য ওপরে অবস্থান করবে, যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি যথেষ্ট ছিল। কিন্তু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ৩.১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার ও শ্রমিক সংগঠন আরও একমত হয়েছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম মজুরি বাড়লেও বিভিন্ন বোনাস বা ভাতা কমিয়ে মোট বেতন একই রাখে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সরকার ডিক্রি জারি করবে, যাতে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবে শ্রমিকদের হাতে পৌঁছায়। সরকার বলছে, এ জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো মনে করে, এ ধরনের পরিবর্তন আইন সংশোধন ছাড়া সম্ভব নয় এবং তারা প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছিল, যেসব প্রতিষ্ঠান ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি বেতন দেবে, তারা করপোরেট করের ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই ছাড় মজুরি বৃদ্ধির পুরো অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে পারত। তবে এই প্রস্তাব আলোচনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হয়নি। শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছে, বিষয়টি আগে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, পরে সামাজিক অংশীদারদের জানানো হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, প্রায় ২৫ লাখ কর্মী এই বৃদ্ধির সুফল পাবেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। তারা বলেছে, যখন সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোতে গড়ে ৩.৫ থেকে ৪.২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, তখন সর্বনিম্ন মজুরি ৩.১ শতাংশ বাড়াতে আপত্তির কারণ থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতা সমন্বয় বন্ধ করা হলে ব্যবসার খরচ দ্রুত বাড়বে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। সরকার জানিয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি ও ভাতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আলাদা আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে।