অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় খুব কম থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। আজ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলেও পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি জানান, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সরকার গ্রহণ করেছে, তবে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সুপারিশগুলো খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আর্থিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মতামত দেবে। পরবর্তী সরকার চাইলে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বেতন কমিশন গঠনের দাবি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কমিশন কাজ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে প্রতিবেদন সরাসরি কার্যকর করা হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সর্বোচ্চ হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবে বেতন কাঠামো সাধারণত ধাপে ধাপে কার্যকর করা হয়, যাতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় চাপ না পড়ে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় তারা মূলত পরবর্তী সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো বেতন কমিশন সম্পর্কিত বিষয়টিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যাতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা কর্মচারীদের অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন কমিশনের সুপারিশের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন।
মন্ত্রীদের জন্য বড় আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফাওজুল কবির খান বলেন, এমন কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি।