জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র মাহাদী আমীন জানান, তারেক রহমান আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে পৌঁছে তিনি গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন।
সিলেট সফর শেষে তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশের নির্ধারিত স্থানগুলো হলো,
- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ
- হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ
- কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম
- নরসিংদী পৌর এলাকা সংলগ্ন মাঠ
- নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকা
মাহাদী আমীন জানান, “এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান গভীর রাতে গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন, ইনশাল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, তার স্বীকৃতি হিসেবেই তারেক রহমান এই সফরে পর্যায়ক্রমে ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতাদের সফরসঙ্গী হিসেবে নিচ্ছেন।
সিলেট সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে যাচ্ছেন, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ একাধিক তরুণ ও সংগ্রামী নেতা। ভবিষ্যতের সফরগুলোতে আরও ত্যাগী নেতাদের যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় কর্মসূচি বা নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তারেক রহমানের এই সফর সেই আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।