আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব ৩০০ আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা সমাধান হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়েই ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু হবে।
শফিকুল আলম বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রক্রিয়া শেষ হতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশের কাছে থাকবে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-অন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ একটি বিশেষ সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে দ্রুত কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা যায়।
ভোটের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রেস সচিব। পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটের দিন সশস্ত্র বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় প্রায় এক লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমান বাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্য মাঠে থাকবে। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত থাকবে।