মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনের সড়কে তিনি দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি হতাহত শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
সাক্ষাৎকালে হতাহত পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এক আহত শিশুর মা বলেন, “আমাদের আহত সন্তানদের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর নিহত শিশুদের পরিবারকে বিশ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। একটা শহীদ শিশুর জীবনের মূল্য কি বিশ লাখ টাকা? অনেক শিশুর একাধিক অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু এখন বিমানবাহিনী সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। হাসপাতালে গেলে আমাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
আরেক আহত শিশুর মা বলেন, “আমার সন্তানের বাবা নেই। মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর এখন সে হাঁটতেই পারে না।”
পরিবারগুলোর মূল দাবিগুলো
হতাহত পরিবারের পক্ষে এক অভিভাবক জানান, স্মারকলিপিতে তাদের চার-পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের শহীদ মর্যাদা দিয়ে গেজেট প্রকাশ
- আহত শিশুদের আজীবন পুনর্বাসন ও হেলথ কার্ড চালু
- দুর্ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য উত্তরায় একটি মসজিদ বা মাদরাসা স্থাপন
- বিচারপতি জয়নুল আবেদিনের করা রিটের বাস্তবায়ন
তিনি বলেন, “স্বল্প সময়ের কারণে সব কথা মুখে বলা সম্ভব হয়নি। আমরা স্মারকলিপির মাধ্যমেই আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি।”
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তারেক রহমান হতাহত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, বর্তমান ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে শিগগিরই পরিবারগুলোর সঙ্গে বসে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
হতাহত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, এই সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পাবে।