ঢাকার সাভারে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারকে ঘিরে গত ছয় মাসে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে, যাকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সিরিয়াল কিলার হিসেবে সন্দেহ করছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সোমবার সকালে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম সোমবার সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পৌর কমিউনিটি সেন্টারে বারবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ আগে থেকেই ভবনটির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছিল।
পৌরসভার সহায়তায় ভবনটি পরিষ্কার করে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গত রোববার ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে ১৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুই যুবকের আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার হলে সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাচল ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরেই অভিযান চালিয়ে সম্রাটকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সম্রাট নিজেকে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পুলিশ তার দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সে মূলত একজন ভবঘুরে, যার নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা কিংবা সুনির্দিষ্ট পেশা।
অপরাধের ধরন দেখে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মনে হলেও, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার আচরণে তেমন কোনো অসংলগ্নতা পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ বলছে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পরিকল্পিতভাবে সে হত্যাগুলো সংঘটিত করেছে।
পুলিশের ধারণা, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সম্রাটের ‘কিলিং জোন’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া সবকটি মরদেহের ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে—
- এসব হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সহযোগী ছিল কি না
- হত্যার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট মোটিভ বা উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না
- নিহতদের সঙ্গে তার কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল কি না
সাভারের প্রাণকেন্দ্রে একটি পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত ভবনকে ঘিরে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত থাকায় তা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
স্থানীয়রা দ্রুত ভবনটি সুরক্ষিত করা ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা আর না ঘটে।