স্পেনের কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ শহরে ভয়াবহ এক রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে।
মালাগা থেকে মাদ্রিদের পুয়ের্তা দে আতোচা যাচ্ছিল আইরিও কোম্পানির ট্রেন নম্বর ৬১৮৯। ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। আদামুজ স্টেশনের কাছে লাইন পরিবর্তনের সময় ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাইনচ্যুত হয় এবং পাশের আরেকটি লাইনে ঢুকে পড়ে। সেই লাইনে তখন মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেন চলছিল। সংঘর্ষের ফলে ওই ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয়।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ২৪ জন গুরুতর আহত এবং বাকি ১২৩ জন বিভিন্ন মাত্রার আঘাত পেয়েছেন। সবাইকে দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। জরুরি চিকিৎসা দল, মোবাইল আইসিইউ, অ্যাম্বুলেন্স, ক্রস রেড ও অন্যান্য সহায়তাকারী সংস্থা সেখানে কাজ করে। আহতদের বাছাই ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আদিফের একটি ভবনে অস্থায়ী মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়।
উদ্ধারকাজে স্পেনের ইউনিটেড মিলিটারি ইমার্জেন্সি (UME) বাহিনীও যোগ দেয়। ৪০ জন সেনা সদস্য ও প্রায় ১৫টি যান উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো জানান, ট্রেনগুলোর ভার এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া লোহার কাঠামোর কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে রেল দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন কাজ শুরু করবে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কর্ডোবার ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটকে। এছাড়া স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সোমবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসার জন্য আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক থেকে কর্ডোবা ও হায়েন প্রদেশে অতিরিক্ত রক্ত পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার বিভিন্ন শহরের মধ্যে হাইস্পিড ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দালুসিয়া সরকার জরুরি অবস্থা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সক্রিয় করেছে। যাত্রী ও নিহতদের স্বজনদের সহায়তার জন্য মাদ্রিদ, কর্ডোবা ও হুয়েলভায় হটলাইন ও তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। আদামুজ শহরে একটি পৌর ভবনকে অস্থায়ী হাসপাতাল এবং আরেকটি ভবনকে স্বজনদের সহায়তা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। মাদ্রিদ, সেভিয়া, কর্ডোবা, মালাগা ও হুয়েলভার বড় স্টেশনগুলোতেও বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরের স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।