ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন ধরে তাদের লাশ নিজ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে পরিবারসহ বসবাস করার লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং মীমের ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষিকা নুসরাত মীম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। সময়মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এনজিওর চাপ এবং এ নিয়ে রোকেয়ার সঙ্গে নুসরাতের একাধিকবার বিরোধ হয়।
পুলিশ জানায়, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় যায় জোবাইদা। এ সময় নুসরাতের ১৫ বছর বয়সী বোনের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে জোবাইদাকে হত্যা করে ওই কিশোরী।
ঘটনার পর বিষয়টি আড়াল করতে নুসরাতের বোন জোবাইদার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয়, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় সে নিজেই চলে গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জোবাইদার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানায় নুসরাত। রোকেয়া মেয়েকে নিতে ফ্ল্যাটে এলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে তার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং জোবাইদার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। প্রায় ২১ দিন ধরে ওই ফ্ল্যাটেই অভিযুক্তরা বসবাস করছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার কিশোরী বোন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।