বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, বাহরাইনে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলে সরকারিভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভিডিওটি তিনি নিজেও দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা কী, তা জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অভিযোগ তোলে যে, বিদেশে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পোস্টাল ব্যালট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এর মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাহরাইনের ওই ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে এবং এটি নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হলে কমিশন বাহরাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানান। তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোটার। নতুন এই পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে যুক্ত সবাই নিখুঁত নন, কেউ কেউ এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকার চায়, কোনো ধরনের অপব্যবহার যেন না হয় এবং যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, ব্যালট ভোটারের কাছে পৌঁছে যাবে এবং ভোট প্রদান শেষে তা ডাকযোগে ফেরত পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে দূতাবাস বা মিশনের ভূমিকা সীমিত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।