যশোরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে নিজ কার্যালয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা দিয়েছে দুদক। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযান পরিচালনা করে দুদক।
তবে আশরাফুল আলমকে ছাড়ানোর দাবিতে সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ করার চেষ্টাও করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তারের মৃত্যুর পর তার স্বামী নুরুন্নবী পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আবেদন করেন। অভিযোগ, ওই পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। নুরুন্নবী টাকা দিয়ে বিষয়টি দুদককে জানালে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, মামলা শেষে শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তার জামিন নেওয়ার চেষ্টা করব। প্রয়োজন হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে ঘুষের টাকাসহ আটক করা হয়েছে।