কাঁচাবাজার ও লেগুনা গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ঢাকা কলেজের চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুর আমিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাসুদ রানা, অভিযোগে নির্দেশদাতা হিসেবে নাম আসা শাফায়েত আলী রুদ্র এবং ঢাকা কলেজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী বায়জিদ ও আবির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইডেন কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এর আগেও একই অভিযোগে একবার ব্যবসায়ীদের হাতে ধরা পড়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন তারা। তবে সোমবার পুনরায় ওই এলাকায় গিয়ে অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের মারধর ও চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের গণধোলাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে আটক করেন।
ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী জানান, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সবজি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবির ও মাসুদসহ কয়েকজন চাঁদা দাবি করতে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নিজেদের নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইডেন কলেজের সামনে এসে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাত-আটজন মিলে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের সময় পানি চাইলে অভিযুক্তরা কটূক্তি করে বলে, আগে টাকা দিতে হবে।
ব্যবসায়ীর দাবি, ঘটনার সময় শাফায়েত আলী রুদ্র পুরো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। পরে মুরাদ নামে একজন এসে অভিযুক্তদের ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিলেও পরে আর কোনো পরিচয় দেননি। তবে তারা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাস রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, সেনাবাহিনী আটক চারজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের সবাইকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।