আবারও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ল ক্রিকেট। এবার তার শিকার বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে খেলার জন্য নিলামে দল পেয়েও শেষ পর্যন্ত খেলতে পারছেন না তিনি। চোট বা ফর্ম নয়—ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তেই আইপিএল থেকে ছিটকে গেছেন মুস্তাফিজ।
২০২৬ আইপিএল সামনে রেখে নিলামের সংক্ষিপ্ত তালিকায় সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম ছিল। সেখান থেকে মুস্তাফিজকে চড়া দামে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু নিলামের পর রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তাকে না খেলানোর নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। একই সঙ্গে বিসিসিআইয়ের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তি বলেন,
‘নিলামের পুল কে তৈরি করেছে? বিসিসিআই নিজেই তো তালিকা বানিয়েছে। সেখানে সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম ছিল। কলকাতা সেই তালিকা থেকেই মুস্তাফিজকে নিয়েছে। শাহরুখ খান তো নিজে নিলামে উঠে নাম ডাকেননি। কলকাতার বোলিং লাইনআপ দুর্বল ছিল বলেই তারা মুস্তাফিজকে তুলেছে। আইপিএলে তার পারফরম্যান্স—৯০ ম্যাচে ৯৬ উইকেট, ইকোনমি ৮-এর আশপাশে—সবই তো পরিসংখ্যান আছে। তাহলে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত কেন?’
নিলামে নাম তোলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘বাংলাদেশের সঙ্গে যদি সম্পর্ক ভালো না থাকে, তাহলে তার নাম নিলামের তালিকায় দেওয়া হলো কেন? একবার যখন নিলামে উঠেছে, তখন দায়টা তো বিসিসিআইয়ের। কলকাতাকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে? আজব একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের দ্বিচারিতার কথাও তুলে ধরেন কীর্তি। তিনি বলেন,
‘অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো হয়নি। আবার অনুরাগ ঠাকুর ও জয় শাহ দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন। অথচ আফ্রিদি সুযোগ পেলেই কাশ্মীর ও ভারতবিরোধী মন্তব্য করেন। তাহলে এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়?’
মুস্তাফিজকে নিলাম থেকে দলে নিয়েও মাঠে নামতে না দেওয়ার ঘটনায় বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। অনেকের মতে, এতে শুধু একজন ক্রিকেটার নয়, আইপিএলের পেশাদার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।