জুলাই আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দেশে ‘বিপ্লবী সরকার’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি’ নামে লঞ্চঘাটের নামকরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
মাসুমা হাদি বলেন, “বাংলাদেশে একটি বিপ্লবী সরকার হতে হবে। এই সরকার যদি ওসমান হত্যার বিচার না করে, তাহলে আর কোনো ওসমান জন্ম নেবে না। কোনো পরিবার আর সন্তানকে দেশে রাখতে চাইবে না।”
তিনি বলেন, ওসমান হাদি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষের প্রতীক ছিলেন।
“আমার ভাইকে জীবিত রাখতে হলে তার আদর্শ ও কাজ এগিয়ে নিতে হবে। ওসমান হাদিকে হত্যা করে দেশকে আরও হাজার বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
হত্যার পেছনে বহুমুখী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মাসুমা হাদি বলেন, “শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এর পেছনে বহু এজেন্ট কাজ করেছে। ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সরকার বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন তা হলো না? কেন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা তুলে দিল—যিনি স্বৈরশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? শপথ গ্রহণের সঙ্গেই আন্দোলনের গতি থেমে যায়।”
সংসদ নির্বাচনে অর্থ ও প্রভাবের রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,
“নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও অর্থ দিয়ে লোক জড়ো করা বন্ধ হলে ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসবে। মার্কা দেখে নয়, বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করে—এমন মানুষকে ভোট দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরে তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।