আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সোমবার তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় থাকছেন তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, শুরু থেকেই তিনি নির্বাচন না করার কথা বলে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন করবেন না বলেই তিনি সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চাননি। তবে সরকার মনে করেছে, নির্বাচনের সময় ছাত্র প্রতিনিধিরা দায়িত্বে থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণেই তিনি পদ ছেড়েছেন। নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত তাঁর আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে জানান তিনি।
এই আসন থেকে তাঁর ভাই ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, মাহবুব আলম এনসিপির নেতা হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবেন। এতে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
এর আগে ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় মাহফুজ আলম জানান, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই যুক্ত থাকলেও তিনি এনসিপির সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন না। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়কে তিনি এক ধরনের রাজনৈতিক শীতল যুদ্ধের সময় হিসেবে দেখছেন। এ প্রেক্ষাপটে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের নীতি ও বক্তব্যে অটল থাকাকেই তিনি শ্রেয় মনে করছেন।
অন্যদিকে, সাবেক ছাত্র প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। দলটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
আসিফ মাহমুদ আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বলেই দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে। আপাতত তিনি এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম কারণ আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে যোগদান।
এর আগে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর সমর্থকেরা কুমিল্লা-৩ আসন থেকেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আসনেই তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।