বিহারের নওয়াদা জেলায় এক মুসলিম কাপড় ফেরিওয়ালাকে গণপিটুনিতে হত্যা করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তি মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন। পরিবারের দাবি, নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানার পরই তাকে মারধর করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়।
আতাহার হুসেইনের স্ত্রী শবনম পারভিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেদিন তার স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। নাম বলার পরই একদল মানুষ তাকে মারধর শুরু করে। তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি বিধবা, আমার সন্তানরা অনাথ হয়ে গেল।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ ডিসেম্বর রাতে নওয়াদা জেলার রোহ থানার অন্তর্গত ভট্টা গ্রামে আতাহার হুসেইনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে চুরির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নওয়াদা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিহার শরীফ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি করেছে নিহতের পরিবার, অন্যটি দায়ের করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে আতাহার হুসেইনকে আট-দশজন মিলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তদের দাবি, তিনি চুরির উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে ঢুকেছিলেন এবং হাতেনাতে ধরা পড়েন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা সবাই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা। নওয়াদা সদর ডেপুটি পুলিশ সুপার হুলাস কুমার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আতাহার হুসেইনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে দুটি অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।
নিহতের পরিবার জানায়, আতাহার হুসেইন নালন্দা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি সাইকেলে করে নারী ও শিশুদের পোশাক বিক্রি করতেন। রোহ ও আশপাশের এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ফেরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার সাইকেলের চাকা পাংচার হয়ে যায়। সাহায্য চাইতেই তিনি হামলার শিকার হন।
নিহতের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ অভিযোগ করেন, নাম ও ধর্মীয় পরিচয় জানার পর তাকে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। তারা ভেবেছিল তিনি মারা গেছেন বলেই পরে চুরির গল্প সাজিয়ে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, মুসলমান ফেরিওয়ালারা এখন গ্রামের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষের একজন সিকান্দার যাদব ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, আতাহার হুসেইন তাদের ঘরে চুরি করতে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দরিদ্র একটি পরিবারের ঘরে বিপুল পরিমাণ গয়না থাকার দাবিটি কতটা বাস্তবসম্মত।
এই ঘটনার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।