সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বাল্যবিয়ের শিকার এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। পারিবারিক কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর নাম নুসরাত খাতুন (১৩)। তিনি উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে নুসরাত। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে নুসরাত খাতুনের বাল্যবিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচিলা গ্রামে এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পরপরই দাম্পত্য কলহ শুরু হয় এবং স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন কিশোরী বধূ।
এক পর্যায়ে বিয়ের এক মাসের মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি (ডিভোর্স) হয়। এরপর গত দুই মাস ধরে নুসরাত বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তবে সংসার ভেঙে যাওয়ার মানসিক চাপ থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
রোববার রাতে নিজ ঘরে থাকা অবস্থায় নুসরাত আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে তাড়াশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।