আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করা হবে এবং পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যেই এ বিচার শেষ হবে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ এর ১০ ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিপোর্ট আসার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হবে।
Posted by Dr. Asif Nazrul on Sunday, December 21, 2025
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী মামলাটি নিষ্পত্তি করা হবে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর)। রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে প্রচারণাকালে রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় তাকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মরদেহ দেশে আনার পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। এতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
জানাজা শেষে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।