বিজয়ের মাসে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী এ কে খন্দকার বীর উত্তম। শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠনে তাঁর নেতৃত্ব ছিল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। তিনি ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৭১ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাকিস্তান বাহিনী ত্যাগ করে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হন। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর এ কে খন্দকারকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই নবগঠিত বিমানবাহিনী একটি কার্যকর বাহিনীতে রূপ নেয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালে তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। পরে ২০১১ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সামরিক জীবনের পর তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। এইচ এম এরশাদের সরকারের সময় প্রথমবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন।
এ কে খন্দকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচিত ও বহুল পঠিত একটি বই। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।