রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কয়েকশ’ মানুষ একত্র হয়ে পত্রিকা দুটি কার্যালয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে এবং তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিওতে লাঠিসোটা হাতে একদল লোককে ভাঙচুর ও হামলা চালাতে দেখা যায়। এ সময় ভবনের ভেতরে উভয় পত্রিকার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মী আটকা পড়েন।
হামলার একপর্যায়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, আগুন নেভাতে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়েও ঘটে বলে পত্রিকাটির একজন সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে উভয় পত্রিকার সব কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে অফিস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে কার্যালয়ের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার—কোনোটিই ছাপা আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দুই পত্রিকার অনলাইন কার্যক্রমও প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এদিকে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উভয় পত্রিকার সংবাদকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে তারা সক্রিয়ভাবে হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসেননি। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে তেজগাঁও থানার ওসি দাবি করেছেন, হামলাকারীদের নিবৃত করতে পুলিশ চেষ্টা করেছে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পাশাপাশি ভবনের ভেতরে আটকে পড়া কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।