মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে মোট ২৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত ২৪ জন। একই সময়ে বিএসএফ কমপক্ষে ৩৩৯৯ বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক পুশ-ইন করেছে।
এছাড়া সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হন এবং কুলাউড়া সীমান্তে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একাধিক লাশও উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ১ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরীয় জলসীমা থেকে ১৯টি ট্রলারসহ ১৬৩ জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।
গত ১১ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন বিস্ফোরণে বিজিবি নায়েক আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন এবং এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সিএমএইচে মারা যান। রাখাইন থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে এক নারীও আহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে ১৯০৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার, যাদের মধ্যে ৭৮৯ জন ধর্ষণের শিকার—এর ৫৮% শিশু। গণধর্ষণের শিকার ১৭৪ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ২৬ জন।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৩৫২ নারী নিহত, যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতায় নিহত ৩১ নারী এবং শিশু নির্যাতনে ২৬৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এইচআরএসএস বলেছে, গত ১১ মাসের সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও সীমান্ত পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানবাধিকার বাস্তবতায় উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।