পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড়, চর আলহাজ্ব মোড় এবং চরগড়গড়ি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জামায়াত ও বিএনপির অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে স্থানীয়ভাবে কৃষক দলের নেতা মক্কেল মৃধা ও জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে বেশ কিছু নেতাকর্মী আলহাজ্ব মোড় এলাকায় যান। সেখানে কৃষক দলের নেতা মক্কেল মৃধা ও তাঁর ছেলেকে পেয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা আক্রমণ করেন।
পরে কাছাকাছি চর আলহাজ্ব মোড় ও মৃধাপাড়া এলাকায় আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কমপক্ষে ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জামায়াত–বিএনপির উভয় পক্ষের বহুজন আহত হন। গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির সমর্থকরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত অস্ত্রধারী বহর নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং গ্রামবাসীর প্রতিবাদের মুখে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আবদুন নুর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসংঘটনীয় পরিস্থিতি ও ধারাবাহিক সংঘর্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।