কারাবন্দি প্রাক্তন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব, যার দাবি তিনি মারা গেছেন। একই সঙ্গে তাঁর সলিটারি সেলে থাকা অবস্থার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা নিয়েও জল্পনা চলছে। এ নিয়ে দ্যা ইকোনমিক টাইম টাইমস পত্রিকায় একটি সংবাদ ছাপিয়েছে, যার শিরোনাম “মৃত্যু গুঞ্জনের মধ্যে ইমরান খানের বোন, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি”।
ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ১৯ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে সাক্ষাতের জন্য গেলে ইমরানের তিন বোন— আলিমা, উজমা ও নরীন খান— এবং পিটিআই সমর্থকদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বোনদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছিলেন। নরীন খান জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সে তাকে চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়, অন্য নারীকেও একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে।
পিটিআই এই ঘটনার ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত পুলিশি হামলা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু ইমরানের সঙ্গে দেখা চাওয়াতেই হামলা চালানো হয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। চলতি বছরের শুরুতে আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে ১৪ বছরের জেল সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সাজা তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের জেল আইনে সপ্তাহে একবার পরিবার সাক্ষাৎ করতে পারে, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকার সেই নিয়ম মানছে না। ইমরান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নির্দেশে তাদের উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, বই বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইমরানের আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী। এমনকি খাইবার–পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি নতুন মাত্রার অস্থিরতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইমরান খানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে অনিশ্চয়তা চলছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কাড়ছে।