মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ– এসব গোষ্ঠী ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেওয়া এই নির্দেশে বলা হয়, জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা হামাসকে সরঞ্জাম ও সহায়তা প্রদান করছে। লেবাননের শাখা—যা আল-জামা আল-ইসলামিয়া নামে পরিচিত—ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে হামাস ও হিজবুল্লাহর পক্ষ নিচ্ছে। অন্যদিকে মিসরের ব্রাদারহুডের এক নেতা গাজায় যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মিসরে বহু বছর ধরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি গোপনভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
হোয়াইট হাউস বলছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। তাই তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সেই প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আরও ৪৫ দিনের মধ্যে উল্লিখিত তিনটি শাখাকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। প্রক্রিয়াটি মূলত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সংগঠনটিকে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ খুলবে।
১৯২৮ সালে মিসরের চিন্তাবিদ হাসান আল–বান্না মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেন। পরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা বিস্তার লাভ করে। অনেক দেশে তারা নির্বাচনে অংশ নিলেও, আবার অনেক দেশ তাদের নিষিদ্ধ করেছে।