পর্তুগালে পিজে (পর্তুগিজ জুডিশিয়াল পুলিশ) দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রযুক্তি-নির্ভর একটি বিশাল মানব পাচার ও অবৈধ বৈধকরণ নেটওয়ার্কটি ভেঙে ফেলছে এই চক্র বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশের অভিবাসীদের লক্ষ করে, তাঁদের কাছ থেকে (লিগ্যালাইজেশন প্যাকেজ) হিসেবে ১৫-২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত আদায় করত।
এই অর্থের বিনিময়ে চক্রটি বাংলাদেশ ও নেপালের নাগরিকদের জন্য কাজের চুক্তি, ট্যাক্স নম্বর (NIF), সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর (NISS), স্বাস্থ্যসেবার ব্যবহারকারী নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ যাবতীয় কাগজপত্র জোগাড় করে দিত। এই নেটওয়ার্কে আইনজীবী, হিসাব রক্ষক, ব্যবসায়ী, এমনকি সরকারি কর্মচারীরাও জড়িত ছিল।
এই অপরাধ চক্রটিকে গ্রেফতারের জন্য “অপারেশন গাম্বেরিয়া” নামের পুলিশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয, তাদের মধ্যে ৭ জন ব্যবসায়ী, ১ জন আইনজীবী এবং কূটনৈতিক অফিসের একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। পরে আরও তিনজনকে (একজন বিদেশি নাগরিক এবং দু’জন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মী) গ্রেপ্তার করা হয় যারা হাজার হাজার অভিবাসীকে জাল উপায়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
শুধুমাত্র কোইম্ব্রার একটি চক্র তিন বছরে ১৮ হাজার অভিবাসীকে জাল উপায়ে বৈধতা দিয়েছে (প্রধানত বিদেশিদের ট্যাক্স নম্বর দিয়ে)। পুরো নেটওয়ার্কটি আবর্তিত হতো উচ্চ পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবং বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে, মোট আয় হয়েছে “কয়েক কোটি ইউরো” বলে ধারণা। অভিযানে নগদ ১ মিলিয়ন ইউরো এবং বহু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে ।
সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে পুলিশ এই মাফিয়া চক্রকে নিয়ে তদন্ত শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে নামে। ৪০টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি, দামি সামগ্রী, নকল নথিপত্র এবং ভুয়া সরকারি সিল জব্দ করে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের অধিকাংশ এলাকায় এই নেটওয়ার্কের অপতৎপরতা পাওয়া গেছে, যেখানে হাজার হাজার ভুয়া ঠিকানার সাথে ভুয়া বাসিন্দা হিসাবে নাম নিবন্ধন করা হয়েছিল।
নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মচারীর জড়িত থাকারও তথ্য এসেছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও কূটনৈতিক খাতে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের কেউ কেউ সার্ভার-কম্পিউটার তথা তথ্যপ্রযুক্তির জটিল হাতিয়ার ব্যবহার করে দুর্নীতি করত। অভিযানে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।