দেশে টানা ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায়। রাজধানীতে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটের দুলুনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। এসময় দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী আহত হন—যাদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্রী।
শামসুন্নাহার হলে তিনজন ছাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন। হলের সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইসরাত জাহান সুমনা সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর পায়ে ভাঙন ধরতে পারে। আহত অন্য দুই ছাত্রীকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কুয়েত মৈত্রী হলের একজন ছাত্রী সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে আহত হন। বেগম রোকেয়া হলের একজন ছাত্রী আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া মাস্টারদা সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ধাক্কাধাক্কিতে হাতে ব্যথা পান।
এর আগেই শনিবার সকাল ১০টার দিকে নরসিংদী এলাকায় ৩.৩ মাত্রার আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। সন্ধ্যার কম্পনটির মাত্রা ছিল ৪.৩ এবং উৎসস্থল ছিল রাজধানী থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে।
গতকাল শুক্রবার সকালে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। আতঙ্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসিন হল থেকে তিন শিক্ষার্থী নিচে লাফ দিয়ে আহত হন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে যায়। বৃহত্তর এলাকায় বিভিন্ন ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিন জেলায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে ছয় শতাধিক মানুষ।