নরসিংদীতে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পে পিতা–পুত্রসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকা। নরসিংদী শহরের গাবতলীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন, তার ছেলে ওমর ফারুক এবং তাসফিয়া আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে দেলোয়ার ও তার দশ বছরের ছেলে ওমর ফারুক মৃত্যুবরণ করেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার বাসিন্দা দেলোয়ার পরিবারসহ গাবতলীতে ভাড়া থাকতেন।
পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে ভূমিকম্পের সময় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে কাজম আলী ভূইয়া নামে এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামে ভূমিকম্পের আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নাসির উদ্দিন। শিবপুর উপজেলার আসকিতলা গ্রামে ভূমিকম্প চলাকালে গাছে উঠে ডালা কাটার সময় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হলে ফুরকান মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় ভবনে ফাটল, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসহ নানাবিধ ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদী সদর হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং জেলা হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি রয়েছে। ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে, যা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হক জানিয়েছেন, অর্ধশতাধিক আহত মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি সেবা অব্যাহত রয়েছে।