রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বেশ কিছু জেলা শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎস শনাক্ত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ এবং কম্পনটি প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর পরিমাপ অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ এবং কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশালে।
উৎপত্তিস্থল রাজধানীর খুব কাছে হওয়ায় ঢাকায় কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়াল ফাটাসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
ঢাকার ঘটনায় হতাহত
আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় একটি আটতলা ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, ভবনের পলেস্তারাসহ কিছু ইট খসে পড়ে। সেখানকার রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়।
খিলগাঁওয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে পাশের দোতলা বাড়ির সামনে থাকা এক ব্যক্তি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
বারিধারার ব্লক–এফ এলাকায় একটি বাসায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনটির সঙ্গে ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্রাপুরের স্বামীবাগে একটি আটতলা ভবন হেলে পাশের আরেকটি ভবনের সঙ্গে আটকে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দল সেখানে কাজ করছে।
কলাবাগানের আবেদখালী রোডে সাততলা একটি ভবন হেলে পড়েছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস现场ে গিয়ে জানায়, ভবনে বড় ধরনের ক্ষতি নেই; ভয়ের কারণে স্থানীয়রা ফোন করেছিলেন।
রাজধানীর বাইরে ক্ষয়ক্ষতি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বাড়িতে আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে।
চাঁদপুর, নীলফামারী, সীতাকুণ্ড, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল, মৌলভীবাজারসহ দেশের বহু এলাকায় ভূমিকম্প স্পষ্ট অনুভূত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়ায় মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, তিনি নিজ চোখে পুকুরের পানিতে বড় ঢেউ উঠতে দেখেছেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানতে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের বাইরে কম্পন অনুভূত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে কলকাতা মহানগরীতেও কম্পন টের পাওয়া গেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।