বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে দিল্লি পৌঁছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার সকালে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায়। এতে সিএসসির চলমান কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা–সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা হয়। এ সময় ভারতের এনএসএকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান খলিলুর রহমান। তার দিল্লি যাত্রার আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার বাসভবনে গিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
এ সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের আগস্ট থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে দিল্লিকে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর নোট ভারবালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। তবে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে এখনো কোনো কূটনৈতিক চিঠি পৌঁছায়নি বলে জানায় মিশনের প্রেস বিভাগ।
খলিলুর রহমানের এবারের সফর অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার ভারতের দ্বিতীয় সফর। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ‘ইন্ডিয়া এনর্জি উইক’-এ যোগ দিতে দিল্লি সফর করেছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ (সিএসসি)-এর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলনের সপ্তম অধিবেশন। ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও মরিশাস এতে অংশ নিচ্ছে। সেশেলস যোগ দিচ্ছে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে এবং মালয়েশিয়া অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রিত। সম্মেলনে ২০২৬ সালের রোডম্যাপ ও কর্মপরিকল্পনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা, ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ এবং মানবিক সহায়তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সিএসসি প্রথম গঠিত হয় ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার উদ্যোগে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়। গত মে মাসে বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় ভারত। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সিএসসিতে ভারসাম্য আনতে দিল্লি বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
খলিলুর–দোভাল বৈঠককে ঘিরে যে কূটনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে, তা বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।