জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এম এ আজিজ বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্বাস করে বিএনপি বড় ভুল করেছে এবং তার মূল্য এখন দলকে দিতে হচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত দক্ষভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করা ইউনূসকে বিএনপি ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজেও প্রথমে তাকে বিশ্বাস করেছিলাম, তার পক্ষে কথা বলেছি—কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেটা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।”
সম্প্রতি ‘তৃতীয় মাত্রা’ টকশোতে অংশ নিয়ে এম এ আজিজ মন্তব্য করেন, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিএনপি যদি স্পষ্ট নির্দেশ দিত যে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, তাহলে বর্তমান অচলাবস্থা তৈরি হতো না। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি আজ এত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের সরকার ক্ষমতায় থাকলে শিবির প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ পেত না। তিনি অভিযোগ করেন, আন্ডারগ্রাউন্ড বা গুপ্ত রাজনীতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। তার বক্তব্য, যারা অতীতে ‘হেলমেট বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তারা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিল—তা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।
তিনি দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কর আরোপ করেছে, সেটি কেবল দৃশ্যমান অংশ। এর পেছনে যে সব গোপন চুক্তি রয়েছে, সেসব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তার প্রশ্ন, যখন বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বা মানবিক করিডরের অনুমতি নিয়ে আলোচনা চলছে—তখন কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বাংলাদেশকে কোনো সামরিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না? তার মতে, এভাবেই বড় শক্তিগুলো ধীরে ধীরে ছোট দেশগুলোকে ভূরাজনীতির ফাঁদে ফেলে।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার না থাকায় আইএমএফ নতুন ঋণ ছাড়ছে না, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভেঙে পড়েছে এবং অর্থনীতি বহুস্তরীয় গভীর সংকটে রয়েছে। তার আশঙ্কা, যদি দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, বর্তমান কাঠামোর মধ্যে তা সামাল দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না—even বিএনপি ক্ষমতায় গেলেও না।
এম এ আজিজ দাবি করেন, বর্তমান সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদে মোট ১৭ জন বিদেশি নাগরিক যুক্ত আছেন, যা দেশকে কার্যত বিদেশি প্রভাবাধীন প্রশাসনের অধীনে নিয়ে যাচ্ছে। তার মন্তব্য, ড. ইউনূস এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কোনো পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, দেশের সামনে গুরুতর এক জাতীয় সংকট আসন্ন।