পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে গত ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এবারের ওয়েব সামিট ২০২৫ প্রযুক্তি সম্মেলন বিশ্ব বাজারে প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন ধারণা, উদ্ভাবন এবং সংযুক্তির বহুমাত্রিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এবারের আয়োজন ৭১,৩৮৬ অংশগ্রহণকারী, ২,৭২৫ স্টার্টআপ এবং ১,৮৫৭ বিনিয়োগকারীর সরব উপস্থিতিতে বিশ্বের প্রযুক্তি ও ইনোভেশন সেক্টরের জন্য এক অনন্য মঞ্চ তৈরি করেছে।
এবারের ২০২৫ সালের সম্মেলনে AI এবং মেশিন লার্নিং সবচেয়ে আলোচিত খাত—প্রায় ২০% স্টার্টআপ এই সেক্টরে কাজ করছে। ফিনটেক, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, SaaS, টেকসই প্রযুক্তি—এগুলোও অগ্রধিকার পেয়েছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী-প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপও অংশগ্রহণ করেছে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও নতুন বাজার সৃষ্টিতে চীনা ইনোভেশন, ব্রাজিল ও পর্তুগালের টেকসই সহযোগিতা এবং ইউরোপের AI ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ সেশনে মেটা-ট্রেন্ড, মাল্টি-রিজিওনাল পার্টনারশিপ, উন্নত মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, নারী নেতৃত্ব, এবং পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থান।দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ব্রাজিলের ৩৭০টিরও বেশি স্টার্টআপের অংশগ্রহণ ও টেকসই সলিউশন। ‘Granter’ নামে পর্তুগালের একটি AI ভিত্তিক স্টার্টআপ সেরা পিচ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জয় করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
অংশগ্রহণকারী স্টার্টআপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান সম্মেলন থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, এবং পরবর্তী কাজে সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে; গত বছরের তথ্য অনুযায়ী ২০০টির অধিক স্টার্টআপ অন্তত ৭১৫.৫ মিলিয়ন ডলার পুঁজির চুক্তি লাভ করেছে
সম্মেলনে ১৫৭ দেশের অংশগ্রহণ, ১০৮ দেশের স্টার্টআপ, ৮০০+ বক্তা, ও ২১০০ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার উপস্থিতি দেখা যায়। উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, নীতি-নির্ধারক এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদের সংযোগ, কাজের নতুন দিগন্ত ও পরবর্তী অংশীদারিত্বের পথ খুলে দিয়েছে।
নারী, তরুণ ও উদীয়মান দেশগুলোর স্টার্টআপকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রযুক্তি-সম্মেলন ছাড়াও, সামাজিক উদ্যোগ, যেমন শিশু-কিশোরদের প্রভাব, নারী নেতৃত্ব, এবং এলাকাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।
সম্মেলনটি শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়, বরং বৈশ্বিক সংযোগ, টেকসই স্টার্টআপ, এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি-নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও বড় সুফল এনেছে। এই সম্মেলনটি প্রযুক্তি খাতের অলিম্পিক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় এবং প্রযুক্তির সাথে যারা যুক্ত রয়েছেন তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বলা চলে। পর্তুগাল এই সম্মেলনটির গত ১০ বছর যাবত আয়োজন করে আসছে।