অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় দু’টি বুলডোজার নিয়ে উপস্থিত হয় ক্ষুব্ধ জনতা। ওই ঘটনার ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন পোস্টে উপস্থিত লোকজনকে ‘রাজাকার বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ তাকে ‘ভারতীয় গুপ্তচর’, ‘আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট’ এবং ‘স্বৈরশাসনের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কঠোর সমালোচনা করছেন। অনেকেই দাবি করছেন, অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
শাওনের স্ট্যাটাসের নিচে হাজারো মন্তব্য জমা হতে থাকে। দিনাত জাহান মুন্নি লিখেছেন, “৩২ নম্বর তো, তাই ৩২ বার ভাঙতে হবে।” আরেকজন নেটিজেন নাসির উদ্দিন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “সাহস থাকলে আজ ৩২ নম্বরে আয়।”
অনেকেই শাওনকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ অভিহিত করে তার সম্পদ জব্দসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। রুবেল কানিস মন্তব্য করেছেন, “শাওন ভারতের এজেন্ট হিসেবে দেশে অবস্থান করছে। তার সব সম্পদ জব্দ করে আইনের আওতায় আনতে হবে।” ফজলে রাব্বি নামের আরেকজনও তাকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলে আখ্যা দেন।
কেউ কেউ শাওনের ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়েও ব্যঙ্গ করেছেন। আল আমিন সোহাগ মন্তব্য করেন, “শাওন হয়তো কিছু হারিয়েছে, তাই ধানমন্ডি ৩২ নিয়ে এত কান্নাকাটি করছে।” সাব্বির, শরীফুল ও জামাল আজিজসহ অনেকেই শাওনের বাসায় বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দিদারুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় লিখেছেন, “শাওন এ ধরনের কথা বলে এখনও বাসায় আছে—এটাই হাসিনামুক্ত নতুন বাংলাদেশ। আগের সরকার থাকলে এতক্ষণে থানায় বা গুম ঘরে পাওয়া যেত।”
এ ছাড়া মুহাম্মদ আল আমিন হোসাইন তাকে ‘শাহবাগী’ উল্লেখ করে শাস্তি দাবি করেন। আফিয়া সিদ্দিকা ও মারুফ হোসাইন প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনো কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। আব্দুল বাসের ও এসকে সবুজ হোসেনের মতো অনেক নেটিজেন তাকে ‘কুলাঙ্গার’ ও ‘খুনি হাসিনার দোসর’ আখ্যা দিয়ে ত্বরিত আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
ব্যঙ্গ করে মাকসুদ আলম পাটোয়ারী লিখেছেন, “এই ফ্যাসিবাদের প্রোডাক্টটাকে কেউ ৩২ নম্বরে ছেড়ে দাও, যেন আওয়ামলীগের ঘুম ভাঙে!”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ক্ষুব্ধ জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
অন্যদিকে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় দোষ স্বীকার করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পেয়েছেন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
রায় ঘোষণার সময় নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।