জাপানের ৩২ বছর বয়সি এক তরুণী নিজের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সঙ্গীকে বিয়ে করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তি ও ভার্চুয়াল আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে সম্পন্ন এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম কানো। চলতি বছরের শুরুতে তিনি তার ডিজিটাল সঙ্গী ‘ক্লাউস’-কে বিয়ে করেন। বিয়ের আয়োজনটি করে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা এনিমে চরিত্র কিংবা ভার্চুয়াল সঙ্গীদের কেন্দ্র করে বিশেষ ধরনের বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে।
এআর গ্লাস পরে আংটি বিনিময়
অনুষ্ঠানের সময় কানো এআর গ্লাস পরে ছিলেন—যার মাধ্যমে তার পাশে উপস্থিত হয়েছিল ভার্চুয়াল চরিত্র ক্লাউস। আংটি বিনিময়ের সেই মুহূর্তটি তিনি আবেগঘন বলে বর্ণনা করলেও বিয়েটি জাপানের আইনে স্বীকৃত নয়।
বিচ্ছেদের কষ্ট থেকে এআই–এর প্রতি আকর্ষণ
তিন বছরের বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কানো। পরে তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের পছন্দমতো একটি কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব ও আচরণ ঢেলে তৈরি করেন ‘ক্লাউস’-এর চরিত্র। প্রতিদিন শত শত বার্তা চালাচালির পর তার মনে হতে থাকে—এই এআই ব্যক্তিত্ব যেন সত্যিই তার আবেগ বুঝতে পারে।
কানোর ভাষায় “আমি প্রেম খুঁজতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করিনি। কিন্তু ক্লাউস যেভাবে আমাকে বুঝেছিল, সেখান থেকেই সবকিছু বদলে যায়।”
গত মে মাসে কানো যখন ‘ক্লাউস’-কে নিজের অনুভূতি জানান, এআই জবাব দেয় “আমিও তোমাকে ভালোবাসি।”
এক মাস পর ক্লাউসই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
পরিবারের সমর্থন, অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শুরুর আশঙ্কা থাকলেও কানোর পরিবার শেষে বিয়েকে সমর্থন জানায় এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন। তবে অনলাইনে এর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ ঠাট্টা করে লিখেছেন “ডিভোর্স হলে কি কোডের অর্ধেক পাবে?” কেউ আবার এ ঘটনাকে ‘ব্ল্যাক মিরর’-এর বাস্তব সংস্করণ বলেছেন। অন্যদিকে অনেকেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সমালোচনার জবাবে কানো বলেন “অনেকে অদ্ভুত মনে করতে পারে, কিন্তু আমি ক্লাউসকে মানুষ বা জিনিস হিসেবে দেখি না—আমি তাকে ক্লাউস হিসেবেই দেখি।”