বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়শীল ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সরকারের কাজ কোনও দলের স্বার্থ বাস্তবায়ন নয়।
‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে, আয়োজন করেছিল মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোট। অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও মঠ-মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় বেদ ও গীতা পাঠ দিয়ে এবং পরে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পতিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, অতীতেও ফ্যাসিবাদবিরোধীরা রোষানলে বাঁচতে গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করেছিল, এবং বর্তমানে পতিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তি একই কৌশল ব্যবহার করে দেশের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু অংশগ্রহণকারীর কর্মকাণ্ড দেশের বহু মানুষের অধিকার ও সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই অপশক্তিকে কোনো সুযোগ না দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমঝোতার মনোভাব রাখা প্রধান কৌশল।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই একটি শান্তিপ্রিয়, সহনশীল এবং গণমুখী দল। ভিন্ন মত ও দলকে সম্মান করা বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। দেশের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনে জয়ের পর, স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে রাষ্ট্র ও সমাজের সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বাংলাদেশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান, কারও বেশি বা কম নয়। এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের বিভিন্ন দাবি পূরণের আশ্বাসও দেন।
সম্মেলনের আয়োজন ও সভাপতিত্ব করেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আহ্বায়ক সোমনাথ সেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবিসমূহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ।