অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন–২০২২–এর সংজ্ঞাতেই বৈষম্য রয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আইনটি নিয়ে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রস্তাবনায় যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সংজ্ঞাটির মধ্যেই বৈষম্যের প্রতিফলন রয়েছে। যদি সবাইকে সমানভাবে মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা না যায়, তবে এই আইন তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না।”
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, রাজনীতিতেও বৈষম্যের প্রভাব দেখা যায়, যার ফলে সমাজে বিভাজন বাড়ছে। আইনটি শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কাঠামো থাকা জরুরি। কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি সমাজে ন্যায়বিচার ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
সংলাপে আলোচকরা জানান, হিজড়া, দলিতসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বৈষম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে তিন বছর আগে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো সংসদে উপস্থাপিত হয়নি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী সারা হোসেন ও শাহদীন মালিক বলেন, কেবল আইন প্রণয়ন নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। এই আইন যেন নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধীসহ সব নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে—সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তাঁরা। বক্তারা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এই আইন অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সংলাপটি আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।