চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে চালিতাতলী এলাকায় প্রচারণা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সরোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে এরশাদ উল্লাহ সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, সরোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সরোয়ারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই বিরোধ থেকেই বুধবারের হামলার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনসংযোগ চলার সময় হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিতে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার ও শান্ত নামে আরও একজন আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সরোয়ার মারা যান।
সরোয়ারের নাম নতুন নয়। চলতি বছরের ২৯ মার্চ নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে তাঁর প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সে সময় তাঁর দুই সহযোগী বখতিয়ার হোসেন মানিক ও মো. আবদুল্লাহ নিহত হন। সরোয়ার ও আরও দুজন আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ জানায়, ওই হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দেন যে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।
ছোট সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক শিবির–সংশ্লিষ্ট ক্যাডার সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। একসময় সরোয়ারও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়।
২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় সংঘটিত এক সন্ত্রাসী হামলায় আটজন নিহত হন, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী। সে মামলায় সাজ্জাদ আলী দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও পরবর্তীতে খালাস পেয়ে বিদেশে চলে যান। সেখান থেকে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে পুলিশের দাবি। তাঁর নির্দেশেই বর্তমানে এলাকায় কাজ করছে ছোট সাজ্জাদ গ্রুপ।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন। তাঁর বিয়েতে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের আগস্টে জামিনে মুক্তির পর থেকে সরোয়ারকে বিএনপির বিভিন্ন সভা–সমাবেশে দেখা যাচ্ছিল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনি জনসংযোগে শত শত মানুষ অংশ নেন। সরোয়ার সেখানে উপস্থিত থাকলেও গুলিবর্ষণটি সন্ত্রাসী দুই পক্ষের পুরোনো বিরোধের ফল।”
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ–পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, গুলিবর্ষণে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ আহত হয়েছেন এবং সরোয়ার নিহত হয়েছেন।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব রানা বলেন, “আমাদের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।”