ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশ করেছে তৃতীয় ধাপের খসড়া ভোটার তালিকা। নতুন এই তালিকায় সারাদেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭২ জন, আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন।
ইসি সচিব বলেন, “নতুনভাবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। দাবি-আপত্তি শেষে ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাই সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে।”
নারী ভোটার এখনো পিছিয়ে:
জনসংখ্যার অনুপাতে নারী ভোটার বাড়লেও সংখ্যায় এখনো পিছিয়ে আছে তারা। গত আগস্টে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন—এর মধ্যে নারী ভোটার ছিলেন ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। অর্থাৎ, পুরুষ ভোটার এখনো নারী ভোটারের চেয়ে প্রায় ১৯ লাখের বেশি।
নারী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নারী ভোটার বৃদ্ধি শুধু নির্বাচনী ভারসাম্যই আনবে না, বরং তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “নারীরা ভোটার হলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আগ্রহী হয়। কিন্তু সাধারণ আসনে মনোনয়ন দিতে পুরুষতান্ত্রিক বাধা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।”
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, “নারী শিক্ষার হার ও আয়ুষ্কাল বেড়েছে, তবে ভোটার নিবন্ধনে তারা পিছিয়ে। বিশেষ করে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অনেকেই এখনো এনআইডি বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত নন।”
গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার মনে করেন, “কারখানা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত অনেক নারী সময় ও সুযোগের অভাবে ভোটার হতে পারেন না। নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও তাদের নির্ভর করতে হয় পুরুষের ওপর।”
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে হলে নারী ভোটার সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। গার্মেন্টকর্মীসহ নিম্নবিত্ত শ্রেণির নারীদের ভোটার হতে উৎসাহিত করতে হবে।”
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটার হওয়ার কাজ চলছে। বস্তি, ভাসমান জনগোষ্ঠী, বেদে ও যাযাবর সম্প্রদায়কেও ভোটার করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। তবে কাউকে জোর করে ভোটার করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের বয়স ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা সবাই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।”
সারসংক্ষেপ:
➡️ মোট ভোটার: ১২,৭৬,১২,৩৮৪ জন
➡️ নতুন যুক্ত: ১৩,০৪,৮৮০ জন
➡️ পুরুষ ভোটার: ৬,৪৭,৬০,৩৮২ জন
➡️ নারী ভোটার: ৬,২৮,৫০,০৭২ জন
➡️ হিজড়া ভোটার: ১,২৩০ জন
➡️ নারী ভোটার এখনো পিছিয়ে প্রায় ১৯ লাখের বেশি