ভালোবাসা জয় করেছে ভাষার বাধা, সংস্কৃতির ভিন্নতা আর হাজার মাইল দূরত্বকেও। প্রণয়ের টানে বাংলাদেশে এসে প্রিয় তরুণীকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন এক চীনা যুবক। শুক্রবার রাতে চীন থেকে ঢাকায় পৌঁছে শনিবার সকালে তিনি চলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে, মেয়েটির বাড়িতে। রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
চীনা যুবকের নাম ওয়াং তাও (৩৬)। তিনি চীনের হুয়ানান প্রদেশের ওয়াং ইচাং চাওয়ের ছেলে। তাঁর প্রেমিকা সুরমা আক্তার (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে। সুরমা ঢাকার লালবাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ নামের একটি ডেটিং অ্যাপে ওয়াং তাও এবং সুরমার পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত কথাবার্তা চলতে থাকে। একসময় বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়। বিষয়টি উভয় পরিবারকে জানানো হলে তাঁরা সম্মতিও দেন। পরে ওয়াং তাও বাংলাদেশ ও চীনের দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে আসেন।
শুক্রবার রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সুরমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওয়াং তাওকে স্বাগত জানিয়ে নিজ গ্রামে নিয়ে যান। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করেন তাঁদের বাড়িতে, বিদেশি বরকে একনজর দেখার জন্য।
সুরমা জানান, ‘আমরা অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছিলাম। ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে কথা বলতাম। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সুরমার মা নুরেনা বলেন, “আমার মেয়ের ভালোবাসা পেতে ছেলেটি চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। সে কোনো ধর্ম মানে না, কিন্তু মেয়েকে বিয়ে করতে ইসলাম গ্রহণে রাজি হয়েছে। রবিবার আদালতে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী বিয়ে হবে। দুই পরিবারই এতে খুশি।”
নাসিরনগর থানার কুন্ডা এলাকার বিট ইনচার্জ উপপরিদর্শক জাহান-ই-আলম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে যাচাই করেন। “পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হয়েছি, যুবক চীনের নাগরিক। তিনি ইংরেজি বলতে পারেন না, তাই দুজনই ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে কথা বলতেন। পরিবার জানিয়েছে, রোববার হলফনামা দিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন ওয়াং তাও, তারপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।”
তরুণীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, বিয়ের পর ওয়াং তাও বাংলাদেশে এক থেকে দেড় মাস অবস্থান করবেন। এরপর নিজ দেশে ফেরার সময় সুরমাকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।