সর্বদা আলোচিত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর হত্যা মামলার আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে রমনা থানা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে শনিবার (২৫ অক্টোবর) ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা থানা।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তাই আসামিদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রোধে বিমানবন্দরসহ দেশের সব স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য আমরা নিশ্চিত করছি, কোনো আসামি যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন। তাদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য ইমিগ্রেশন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (২০ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করার পরপরই পুলিশ আসামিদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখে। মামলার বাদী সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম তার বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলা দায়ের করেন। এতে সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি গোলাম ফারুক জানান, আসামিদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিদের মধ্যে কয়েকজন হয়তো দেশের বাইরে থাকতে পারেন, তবে দেশে যারা আছেন তাদের শনাক্তে আমরা কাজ করছি।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে এটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে তদন্ত হলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়। প্রায় তিন দশক ধরে নানা সংস্থা মামলাটি তদন্ত করেছে।
সিআইডি, র্যাব ও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ধারাবাহিকভাবে মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিবিআই জানায়, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে সালমানের মা নীলা চৌধুরী সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে তদন্তের দাবি জানান।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি অক্টোবর মাসে আদালত নতুন করে হত্যা মামলা রুজুর নির্দেশ দেন এবং পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এখন মামলাটির প্রতিবেদন আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে দাখিলের আদেশ রয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সালমান শাহ ছিলেন সর্বত্র জনপ্রিয় নায়ক। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি দুই ডজনেরও বেশি হিট সিনেমা উপহার দেন। মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।