মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলার আসামি ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কারা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ‘বাংলাদেশ জেল–প্রিজন ভ্যান’ লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের একটি বিশেষ গাড়িতে করে তাদের ঢাকার সেনানিবাস এলাকায় বাশার রোডের সাব-জেলে স্থানান্তর করা হয়।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, আসামিদের সেনানিবাসের সাব-জেলেই রাখা হবে। সেখানে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন একজন ডেপুটি জেলার। কারাবিধি অনুযায়ী, তারা অন্যান্য ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের মতোই সুবিধা পাবেন।
আইজি প্রিজন্স আরও বলেন, আসামিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অনুরোধে আধুনিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের এ ধরনের ছয়টি গাড়ি রয়েছে, যা সাধারণত ভিআইপি বন্দিদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে আসামিদের সেনানিবাসের সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা এখন কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই আছেন।
আদালত থেকে বুধবার তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই সকাল সোয়া ৭টার দিকে সবুজ রঙের প্রিজন ভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সবাই তখন সাধারণ পোশাকে ছিলেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
তবে আসামিদের পরিবহনে বিলাসবহুল প্রিজন ভ্যান ব্যবহারে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত আদালতের আদেশ অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরই বন্দিরা এ ধরনের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পান। অথচ এ ক্ষেত্রে তাদের আদালতে হাজির করার আগেই আধুনিক প্রিজন ভ্যান ব্যবহার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। তবে ব্যবহৃত গাড়িটি পুলিশের নয়, কারা কর্তৃপক্ষের। আসামিরা ভিআইপি বিবেচনায় ওই গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, সাব-জেলে থাকা আসামিদের জন্য তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে—সকালে রুটি ও সবজি, দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি ও মাছ বা মাংস, আর রাতে মাছ বা মাংসের সঙ্গে সবজি। রুমে বিছানা, টেবিল, চেয়ার, পত্রিকা, ফ্যান ও চা-পানের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ও জেলার সাব-জেলের কার্যক্রম তদারকি করবেন। তাদের সহায়তায় তিনজন ডেপুটি জেলার তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন, যাদের নিয়মিত রোটেশন করা হবে।
এআইজি (প্রিজন্স) জান্নাতুল ফরহাদ জানান, আসামিদের পুলিশের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন সাব-জেলে কারা হেফাজতে রয়েছেন। আদালতে হাজিরার সময় তাদের আবার পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর সরকার ঢাকার সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে সাব-জেল ঘোষণা করে।