নোয়াখালী সদর উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজিত কুরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কর্মীরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
তিনি লিখেছেন, “নোয়াখালী সদরে ছাত্রশিবির আয়োজিত কুরআন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে স্থানীয় বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা চালিয়েছে। কুরআন শিক্ষায় অংশ নেওয়া নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে—এটি নব্য ফ্যাসিবাদী ও কুরআন-বিরোধী রাজনীতির প্রতিচ্ছবি।”
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “কুরআন শেখার মতো একটি শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা কোনো সভ্য সমাজের কাজ নয়। অসভ্যতারও একটা সীমা আছে। ৩৬ জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতি সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি এবার বন্ধ হতেই হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। আমাদের সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করবেন না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নোয়াখালীর নেওয়াজপুর ইউনিয়নের কাসেম বাজার জামে মসজিদে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দারসুল কুরআন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। ওই সময় স্থানীয় যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, শনিবারের ঘটনার প্রতিবাদে রোববার আসরের নামাজের পর একই মসজিদে আবারও কুরআন তালিমের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নামাজ শেষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা মসজিদে প্রবেশ করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং মসজিদের দরজা বন্ধ করে তাদের আটকে রাখে।
ফজলে রাব্বীর দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ২৫ জন ছাত্রশিবির কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে শহর শিবিরের অফিস সম্পাদক তানভীর সিয়াম, আইন সম্পাদক নাঈম হোসেন, সাথী ছালাউদ্দিন এবং কেরামতিয়া মাদ্রাসার শিবির সভাপতি আরাফাত আলীসহ ১৬ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সও বাধার মুখে পড়ে বলে তিনি অভিযোগ করেন।